সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসা সুখরঞ্জন বালীকে গুমের মামলায় সাবেক এএসপি কারাগারে

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৪ জুলাই ২০২৬ ০২:৪৩ পূর্বাহ্ণ   |   ৪৭ বার পঠিত
সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসা সুখরঞ্জন বালীকে গুমের মামলায় সাবেক এএসপি কারাগারে

ডেক্স নিউজ, ঢাকা প্রেস:

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হেলালুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুখরঞ্জন বালী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে তার আইনজীবীর সঙ্গে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে আসেন। ট্রাইব্যুনালের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছানোর পর সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে একটি সাদা ডাবল কেবিন গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

 

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, এরপর তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দীর্ঘ সময় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় পাঁচ বছর আটক থাকার পর স্থানীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে তার ছেলে অপূর্ব বালী ভারতে গিয়ে জামিনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনেন।

 

তদন্ত সংস্থার দাবি, ঘটনায় ডিবির দুটি ডাবল কেবিন গাড়ি ব্যবহৃত হয়েছিল এবং মো. ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে তুলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে তাকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ফজলুর রহমানের সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে। তবে তার পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করে আসছিল, ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

 

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর পর ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী।

 

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং পরে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

 

ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

অভিযুক্তদের তালিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের নামও রয়েছে।