গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামে এক কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত দুই কিশোরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সকালে নিহত রাহাতের স্বজনদের সঙ্গে এলাকার ক্ষুব্ধ মানুষজন বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্ত সাকিব ও রিফাতের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। ঘরের আসবাবপত্র, থালা-বাসনসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেঙে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে সাকিবের বাড়িতে এবং পরে রিফাতের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায়।
নিহত রাহাত (১৫) উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত সাকিব ও রিফাত একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা তিনজনই ঢাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি (তদন্ত) সুমঙ্গল কুমার দাস জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। নিহত রাহাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের হাওয়াই দিঘি এলাকায় একটি পুকুরে গোসল করতে যায় রাহাত, সাকিব ও রিফাত। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাহাতকে পানিতে চুবিয়ে দেওয়া হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।