সীতাকুণ্ডে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা, কুকুর–বিড়ালের টিকাদান কর্মসূচি শুরু
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে জলাতঙ্ক (রেবিস) সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় প্রতিরোধমূলক নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। চলতি সপ্তাহ থেকেই প্রতিটি গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আলতাফ হোসেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সভায় ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারঘাট, রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালের সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ও জঙ্গল এলাকায় শিয়াল, বানর ও বেজির মতো বন্যপ্রাণী রয়েছে। এসব প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে মানুষের শরীরে জলাতঙ্ক ছড়াতে পারে, যা শতভাগ প্রাণঘাতী। তাই সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। যারা পারিবারিকভাবে কুকুর বা বিড়াল লালন-পালন করেন, তাদের নির্ধারিত সময়ে জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে প্রাণীদের টিকাদান কর্মসূচিতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসি (ল্যান্ড) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়াল জলাতঙ্ক বহনের বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এসব প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত হলে দ্রুত টিকা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। নিজ নিজ এলাকায় প্রাণীদের টিকাদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই সবাই নিরাপদ থাকা সম্ভব। স্বাস্থ্য বিভাগের এই উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জলাতঙ্ক বিষয়ক সুপারভাইজার মোক্তার উদ্দিন বলেন, কুকুর, বিড়াল, বানর, শিয়াল ও বেজির আক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসা তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ এ আঁচড়, লেহন বা সংস্পর্শে কোনো ক্ষত না থাকলে টিকা প্রয়োজন নেই; তবে দ্রুত কাপড় কাচার সাবান দিয়ে পরিষ্কার পানিতে অন্তত ১৫ মিনিট ধুতে হবে। ক্যাটাগরি-২ এ ক্ষত থাকলেও রক্তক্ষরণ না হলে অ্যান্টি রেবিস ভ্যাকসিন (ARV) নিতে হবে। ক্যাটাগরি-৩ এ ক্ষতসহ রক্তক্ষরণ হলে ARV-এর পাশাপাশি রেবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG) নিতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম ও সময়ে চিকিৎসা নিলে আক্রান্ত রোগীর ঝুঁকি থাকে না।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া, শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (ইন্টেলিজেন্স)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬