কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. গোলাম রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বুধবার (১২ আগস্ট) এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বরখাস্ত হওয়া অপর দুই কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় সংযুক্ত থাকা কাজী আশরাফুল আজীম। গোলাম রুহানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। রাজন কুমার দাস কর্মরত ছিলেন এপিবিএন, কক্সবাজারের উখিয়ায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি। তাঁদের নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁরা দায়িত্বে ফেরেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।
অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির সময়সীমা ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলায় বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তাঁদের দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এবারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের ধরন ও গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং বরখাস্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে পিএসসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে মতামত দেয়।
এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বুধবার ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।