নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির এক মক্তবছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রোববার (১২ মে) রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আসামি করা হয়েছে, যে চলতি বছর স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল (এসএসসি সমমান) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কিশোর পলাতক রয়েছে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়ির পাশে একটি মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। সেখানে অভিযুক্ত কিশোরের ছোট বোনও পড়ত। সকালে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পড়া শেষ হলেও তারা মসজিদেই অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোর ছাতা নিয়ে তার ছোট বোনকে বাড়ি পৌঁছে দিতে আসে। পরে সে ভুক্তভোগী শিশুটিকেও বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মক্তবের পাশের একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে।
এ সময় ভুক্তভোগী শিশুটির চিৎকার শুনে এক পথচারী এগিয়ে এলে অভিযুক্ত কিশোর দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর স্থানীয় এক মাতব্বর বিষয়টি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগীর বাবা বিষয়টি জানতে পেরে বিকেলে সরাসরি কুমারখালী থানায় যান এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেন। খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে হেফাজতে নেয় এবং শারীরিক পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মা অসুস্থ থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, "ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"