রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজার-এ জিয়ারতকারী ও ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ পুলিশ-এর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), মো. আজম (৪০) এবং মো. আরমান দেওয়ান (২৯)।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হামলায় তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।
হামলায় আহত রেশমি বেগম বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি মাজারে জিয়ারত ও ওরস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মাজার প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক ভক্তের উপস্থিতির মধ্যে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটাসহ প্রবেশ করে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা মাজারের শিরনির ডেগের লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে রেশমি বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। হামলায় প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শনিবার মাজার প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে।
প্রতিনিধিদলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ফরিদুল হক, প্রীতম দাশ ও হুমায়রা নূর উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা শাহ আলী থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সারোয়ার তুষার বলেন, গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন মাজার ও সুফি স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।