ঢাকায় শিশুহত্যার অভিযোগে রিকশা মেকানিকের বিরুদ্ধে মামলা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২০ মে ২০২৬ ০৮:২৮ অপরাহ্ণ   |   ৫৬ বার পঠিত
ঢাকায় শিশুহত্যার অভিযোগে রিকশা মেকানিকের বিরুদ্ধে মামলা

মো: আমিনুল ইসলাম

 

নাটোরের জেলখানা থেকে জামিনে বের হয়ে ঢাকা চলে আসে জাকির, সাথে স্ত্রী স্বপ্না। পেশায় রিকশা মেকানিক। উঠে পল্লবীর একটি বহুতল বাড়িতে।
জাকিরের চোখ পড়ে পাশের ফ্ল্যাটের  আট বছর বয়সী এক শিশুর উপর।

 

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা ও মরদেহ খণ্ডিত করার অভিযোগ উঠেছে এক রিকশা মেকানিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাটোর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে সম্প্রতি ঢাকায় আসে জাকির নামের এক ব্যক্তি। পেশায় তিনি রিকশা মেকানিক। তারা পল্লবীর একটি বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

 

একই ভবনের আট বছর বয়সী শিশু রামিসা প্রতিদিনের মতো বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরিবারের সদস্যরা ভবনের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

 

এক পর্যায়ে জাকিরদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পান তার মা। পরে দরজায় বারবার কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দরজাটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ভবনের লোকজন জড়ো হন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। ভেতরে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা। এ দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন।

 

পুলিশ জাকিরের স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, তার স্বামীর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয় রামিসা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা বিচ্ছিন্ন করে আলাদা স্থানে লুকিয়ে রাখার পরিকল্পনা করা হয়।

 

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাকির পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।