বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তাদের ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। যদিও দুই আসনেই বিএনপির এ দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
আসলাম চৌধুরীর ক্ষেত্রে, ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনে করা আপিলের শেষ দিনে গত ১৮ জানুয়ারি প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রিট দায়ের করলে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। একইসঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল দায়ের করেন।
এরপর গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। এতে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলেও আদালতের আদেশের কারণে তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ঋণখেলাপির অভিযোগে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করেন এবং তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী মুহম্মদ নুরুল আমিন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশে তার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থায় ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণের সুযোগ চেয়ে তিনি আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।