চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সমাজ বদলের রোডম্যাপ চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৬ মে ২০২৬ ০৫:৫৬ অপরাহ্ণ   |   ৩৯ বার পঠিত
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সমাজ বদলের রোডম্যাপ চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

চলচ্চিত্র আন্দোলনের পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনের জন্যও একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে শিল্পীদের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

শনিবার সকালে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ আয়োজিত ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা বিপ্লব করতে চাই এ কথা বলিনি, আমরা পরিবর্তন করতে চাই। আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে মেরামত করতে হবে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। দেশের গৌরবময় ইতিহাস যেমন মানুষ দেখেছে, তেমনি সংকট ও দুরাবস্থার অভিজ্ঞতাও জাতিকে আরও প্রজ্ঞাবান করেছে।

 

কার্যকর মতবিনিময় ও চিন্তার সংযোগ ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাইলেই কেউ কালজয়ী নেতা হতে পারেন না, তেমনি কালজয়ী শিল্পীও হওয়া যায় না।

 

শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রকে সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট প্রোডাক্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত মানুষের চিন্তাশক্তিই সমাজকে পরিচালিত করে এবং এই প্রক্রিয়ায় চলচ্চিত্রকারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার বড় সুযোগ রয়েছে। কিছু কাজ মানবকল্যাণের তাগিদ থেকে করা হয়, আর বিত্তবান হওয়ার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্তদের এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে অনুধাবন করে কাজ করতে হবে।

 

রাষ্ট্র এখনও শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের প্রতি পর্যাপ্ত মানবিক হতে পারেনি স্বীকার করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক কিছু করার ছিল, যা আমরা করতে পারিনি। চলচ্চিত্র যে একটি শক্তিশালী মাধ্যম এই উপলব্ধি থেকে যারা বিত্তের স্বপ্ন বাদ দিয়ে এ অঙ্গনে এসেছেন, রাষ্ট্র হয়তো এখনো তাদের পাশে দাঁড়ানোর যথেষ্ট বোধ তৈরি করতে পারেনি। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

 

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আপনাদের রোডম্যাপ শুধু চলচ্চিত্র আন্দোলনের না হয়ে সমাজ পরিবর্তনের জন্যও হওয়া উচিত। তবে কোনো গোষ্ঠীগত আদর্শের ভিত্তিতে নয়। কারণ, আদর্শভিত্তিক পরিবর্তন অনেক সময় গোষ্ঠীর স্বার্থে সবকিছুকে ‘প্রোপাগান্ডা মেশিনে’ পরিণত করে ফেলে। গোষ্ঠীর দাস কখনো মুক্তবুদ্ধির অধিকারী হতে পারে না।