মুরাদনগরে ড্রেজারের দাপটে কমছে তিন ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত দরদরিয়া খাল

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২০ জুন ২০২৬ ০১:৫১ অপরাহ্ণ   |   ৪০ বার পঠিত
মুরাদনগরে ড্রেজারের দাপটে কমছে তিন ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত দরদরিয়া খাল

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রমজানেরকান্দা বিলে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে তিন ফসলি কৃষিজমি ও দরদরিয়া খাল থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ড্রেজিংয়ের কারণে আশপাশের আবাদি জমির মাটি ধসে পড়ছে এবং কৃষকেরা ধীরে ধীরে তাদের উৎপাদনক্ষম জমি হারাচ্ছেন। এতে একদিকে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশগত ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
 

সরেজমিনে দেখা গেছে, রমজানেরকান্দা বিলে দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করে বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত মাটি আশপাশের জমি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দরদরিয়া খালের বিভিন্ন অংশ থেকেও মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত মাটি উত্তোলনের ফলে কয়েকটি স্থানে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতে ধসের ঝুঁকি বেড়েছে এবং জমির স্বাভাবিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
 

উপজেলার সদর ইউনিয়নের রমজানেরকান্দা গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ, আব্দুল গফুর ও ধনু মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, প্রশাসনের অভিযান শুরু হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্টরা কোনোভাবে তথ্য পেয়ে ড্রেজার সরিয়ে ফেলেন বা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। তবে অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও মাটি কাটা শুরু হয়। ফলে ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং কৃষকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।
 

তারা আরও জানান, এলাকায় একাধিক ড্রেজার দিয়ে একযোগে মাটি কাটা হচ্ছে। একটি ড্রেজারের কার্যক্রম বন্ধ হলেও অন্যটির মাধ্যমে পুনরায় মাটি উত্তোলন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
 

অভিযোগের বিষয়ে ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, একজনের অনুরোধে তিনি জমি ভরাটের কাজ করছেন।
 

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খাঁন বলেন, ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।