পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, পেশাদারিত্ব ও সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০২ আগu ২০২৬ ০৬:৪১ অপরাহ্ণ   |   ১০৩ বার পঠিত
পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, পেশাদারিত্ব ও সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মো. শফিকুল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো:


 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, পেশাদারিত্ব এবং সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের আস্থা অর্জন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
 

রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 

ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে আয়োজিত এই সমাপনী কুচকাওয়াজে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অংশ নেন। কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানের পর নতুন বাস্তবতায় পুলিশ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড মেনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে হবে।
 

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নবীন পুলিশ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ, রাজশাহী-২ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি. এম. আজিজুর রহমান।
 

কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা উষ্টায়। তিনি ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ পুরস্কার অর্জন করেন। ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম. মামুন।
 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রশিক্ষণ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন করা হবে।