হামলার ঘটনার পর বাঁধন: ‘আমি এটার শেষ দেখে ছাড়ব’

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৩ অপরাহ্ণ   |   ৫৪ বার পঠিত
হামলার ঘটনার পর বাঁধন: ‘আমি এটার শেষ দেখে ছাড়ব’

বিনোদন ডেস্ক

 

ইতালির ভেনিসে সপরিবারে হামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ঘটনার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজনকে দায়ী করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সব প্রমাণ তার কাছে রয়েছে এবং কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
 

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন জানান, তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন। স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বাঁধন।
 

বাঁধন বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তার ছোট ভাই, ভাবি ও তিন বছরের শিশুসন্তানও হামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
 

তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই, তার স্ত্রী এবং তার তিন বছরের বাচ্চা যেভাবে অ্যাসল্টেড ও হ্যারাসড হয়েছে, সেটার জন্য আমি মারাত্মকভাবে আপসেট।’
 

অভিনেত্রী জানান, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে। এমনকি রাতে পুলিশ তাকে নিরাপদ একটি স্থানে পৌঁছে দেয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
 

বাঁধনের ভাষ্য, ‘আমাদের কাছে সমস্ত এভিডেন্স আছে এবং আমরা এরই মধ্যে অনেকজনকে আইডেন্টিফাই করেছি। বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর আমাকে ফোন করেছেন। তাঁর অফিস থেকেও লোক এসেছে। তাদের সঙ্গে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল করতে।’
 

ঘটনার পর দেশ-বিদেশ থেকে যারা তার খোঁজ নিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি।’
 

নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়। বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি।’
 

দেশের মানুষের সমর্থনে গর্বিত উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘আমি মনে করি, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি। কারণ আমার দেশের মানুষ আমার বিপদে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।’
 

নিজের বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি মনে করি, এটা আমার জীবনে নেওয়া কিছু সঠিক সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি। আমি একজন গর্বিত জুলাইযোদ্ধা।’
 

সবশেষে ভেনিসে না ফেরা পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা প্রকাশ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটা শেষ, আমি দেখে ছাড়ব।’
 

এ সময় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।