আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
সোমবার সকালে রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জি এম কাদের বলেন, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এত বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিরত রেখে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বড় দলের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে রাখলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দেশের সাধারণ মানুষ একপর্যায়ে তাদের সমর্থনে রাজপথে নামবে।
বাজেট ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ কমবে। আন্তর্জাতিক এই সংকটের ব্যাপক প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার কথা থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে এ নিয়ে কোনো কথাই বলা হয়নি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এবার যে রাজস্ব আদায় হয়েছে, আগামীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য তা আরও অনেক কমে যাওয়ার জোর আশঙ্কা থাকবে। কাজেই এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আগামী দিনে সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
রাজস্ব ঘাটতির কারণে দেশি-বিদেশি ব্যাপক ঋণ করেই আগামীতে সরকারকে চলতে হবে, যার ফলে অর্থনীতিতে বড় অরাজকতা সৃষ্টি হবে।
জি এম কাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আরও বলেন, দেশ এখন এক বিশাল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশে যে একটি বড় সংকট চলছে, এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ কারও নেই।
সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, সব পক্ষের রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া এই জাতীয় সংকট থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব নয়।