নরসিংদীতে বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও লুট: র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৩ জুলাই ২০২৬ ০৫:৪৫ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
নরসিংদীতে বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও লুট: র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫

ঢাকা প্রেস প্রতিনিধি:

 

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ববি বেগম (৭০) হত্যা ও লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১।

 

র‌্যাব জানায়, গত ৪ জুলাই গভীর রাতে মেথিকান্দা রেলস্টেশনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অবস্থানরত ববি বেগমের ওপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ও সঞ্চিত প্রায় ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৮ জুলাই রাতে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

 

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র‌্যাব-১১ ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

 

এর ধারাবাহিকতায় ৯ জুলাই রাতে র‌্যাব-১১-এর সিপিএসসি নরসিংদীর একটি দল মেথিকান্দা রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে মো. ইলিয়াস (৩৫), মো. সাকিব (১৯) ও বেলাল মিয়া (২৬) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা এলাকার বাসিন্দা।

 

একই রাতে পৃথক অভিযানে র‌্যাব-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি দল জেলার নবীনগর উপজেলার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের নতুন ঈদগাহসংলগ্ন এলাকা থেকে মো. দ্বীন ইসলাম (২৬) ও মো. রিফাত (২০) নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বাড়িও রায়পুরা উপজেলার নজরপুর এলাকায়।

 

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ববি বেগমের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে—এ তথ্য আগে থেকেই তাদের জানা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গভীর রাতে তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে নগদ টাকা লুট করে তারা পালিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ববি বেগমের মৃত্যু হলে ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

 

র‌্যাব জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

 

গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ভৈরব রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।