ঢাকা, ১০ জানুয়ারি – বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, মতপার্থক্য থাকলেও তা বিভেদের কারণ হয়ে উঠতে না পারে। দেশের মানুষ ৫ আগস্ট কীভাবে প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের পরিণতি ভুগেছে, তা মনে রেখেই রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠিত হলে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের গঠনমূলক সমালোচনার প্রত্যাশা রাখেন। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখছে, সকল আশা পূরণ সম্ভব নাও হতে পারে, তবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকলে একসাথে কাজ করলে জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বৈঠকে তিনি দেশের চলমান সমস্যাগুলোর দিকে ইঙ্গিত দেন। রাজধানীর পানির সংকট, তরুণদের কর্মসংস্থান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রশমন এবং কৃষকদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, আইটি পার্কের নামে গড়ে ওঠা বড় বড় বিল্ডিংগুলো বর্তমানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোকে নতুনভাবে পরিকল্পনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি জাতিকে কতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা সকলের জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে রাজনৈতিক কর্মীদের দায়িত্ববান হওয়া উচিত।
তারেক রহমান নতুন উদ্ভাবনী প্রস্তাব হিসেবে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই কার্ডের মূল লক্ষ্য থাকবে পরিবারের গৃহিণীরা। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা পাবেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ২২ জানুয়ারি থেকে বিএনপি নানামুখী পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ দলের সিনিয়র নেতারা। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন শফিক রেহমান, আবদুল হাই সিকদার, নুরুল কবির, মতিউর রহমান চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান, আযম মীর শাহিদুল আহসান, জহিরুল আলম, সাংবাদিক নেতা এম এ আজিজ, কাদের গণি চৌধুরী, হাসান হাফিজ, শহিদুল ইসলাম, খুরশীদ আলমসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। এর ১০ দিনের মাথায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। শনিবার রাতের বৈঠকের পরই তিনি প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।