মো: আমিনুল ইসলাম:
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেইসবুক) দেওয়া শাহনাজ ইসলামের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওই মন্তব্যে শাহনাজ ইসলাম বলেন, যারা পানিবন্দি পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না বলে দাবি করছে, তারাই আবার একই পানিতে নেমে আন্দোলন করছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে করা তাঁর কিছু ব্যক্তিগত মন্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনার দাবিকে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাস্তবতায় পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা স্বাভাবিক। তবে এ দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি কতটা যৌক্তিক, সেটিও শান্তভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়াশোনায় মনোযোগী থাকা এবং উপযুক্ত পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও উচিত বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সময়োপযোগী, মানবিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
মন্তব্যে আরও বলা হয়, কোনো পক্ষ যেন শিক্ষার্থীদের আবেগ বা আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সংলাপ, যুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই যেকোনো সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষাখাতে বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্যে দাবি করা হয়। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বৃদ্ধি, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্যের শেষাংশে শিক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, শিক্ষা যেন আন্দোলনের হাতিয়ার নয়, বরং জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মানকে শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।