কাজী শরীফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় অবৈধ ড্রেজিংসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একযোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ১১টি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ৪ হাজার ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) উপজেলার পূর্ব ধৈইর পূর্ব ইউনিয়নের এলখাল এলাকা, আন্দিকোট ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রাম এবং কোরবানপুর বাজারে একযোগে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান।

অভিযানকালে কৃষিজমি ও পরিবেশবিনাশী অবৈধ ড্রেজিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃষিজমি থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ১১টি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ৪ হাজার ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। জব্দকৃত সরঞ্জাম ধ্বংসসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযানের অংশ হিসেবে কোরবানপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সেখানে একটি মিষ্টির দোকানে প্যাকেটজাত মিষ্টিতে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে অতিরিক্ত ওজন (প্রায় ১৭০ গ্রাম) দিয়ে ভোক্তাদের প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দোকানিকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, “অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান নিয়মিত ও আরও জোরদার করা হবে।”
প্রশাসনের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবৈধ ড্রেজিংসহ সব ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।