কুয়াশার চাদরে ঢাকা মাদারগঞ্জ, হাড়কাঁপানো শীতে দিশাহারা সাধারণ মানুষ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ   |   ১৩৬ বার পঠিত
কুয়াশার চাদরে ঢাকা মাদারগঞ্জ, হাড়কাঁপানো শীতে দিশাহারা সাধারণ মানুষ

মোস্তাফিজুর রহমানমাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:

 

পূঞ্জিকা অনুযায়ী মাঘ মাস শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকলেও জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রকৃতি যেন আগেভাগেই নামিয়ে এনেছে হাড়কাঁপানো শীত। বুধবার দিনভর আকাশে ঘন কুয়াশার ধূসর চাদর ছড়িয়ে পড়ায় সূর্যের দেখা মেলেনি। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে দিশাহারা হয়ে পড়েছে যমুনা পাড়ের লাখো মানুষ।

সকাল থেকেই উপজেলার বালিজুড়ী, গুনারীতলা ও কড়ইচড়া ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দৃষ্টিসীমা ছিল অত্যন্ত সীমিত। যমুনার পাড়ে প্রতিদিনের সূর্যোদয় যেখানে মানুষের কর্মচাঞ্চল্য জাগায়, সেখানে বুধবার কেবল কুয়াশার দাপটই চোখে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা ও তীব্র শীত তারা দেখেননি।

মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। জীবিকার তাগিদে যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের চোখেমুখে ছিল চরম কষ্ট আর অসহায়ত্বের ছাপ। সিএনজি চালক করিম মিয়া বলেন,
“রাস্তা ঠিকমতো দেখা যায় না, হাত-পা অবশ হয়ে আসে। আজ সূর্যটা যেন আমাদের ওপর রাগ করে লুকিয়ে আছে।”

চরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও করুণ। যমুনার কোল ঘেঁষে বসবাসকারী মানুষদের কাছে শীত শুধু ঋতু পরিবর্তন নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই। তীব্র ঠান্ডায় বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে রবি শস্যের পরাগায়ন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় শীতার্ত মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় মানবিক সহায়তা। স্থানীয়দের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিত্তবান ব্যক্তি ও সেবামূলক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।

সূর্যহীন এই জনপদে কবে ফিরবে উষ্ণতার পরশ—সে অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে মাদারগঞ্জের হাজারো শীতার্ত মানুষ।