দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসীকে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করে এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান এবং আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখা।
এর আগে গত ১৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের একটি কক্ষে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও সেবনের অভিযোগে দুই নারী শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করার সুপারিশ করা হয়।
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তনুজা তিথি এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। কক্ষটি তনুজা তিথির নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযানের সময় সেখানে সানজিদা আমীর ইনিসীও উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ লঙ্ঘন করেছেন। ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী ক্যাম্পাস, বিভাগ, ইনস্টিটিউট বা আবাসিক হলে যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ, সেবন কিংবা ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী দুই শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি তনুজা তিথির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করার সুপারিশ করা হয়।
এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রোববার হাইকোর্টে রিট করেন সানজিদা আমীর ইনিসী। শুনানিতে তার আইনজীবী দাবি করেন, ইনিসীর কাছ থেকে বা তার কক্ষ থেকে কোনো ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়নি। এমনকি তিনি মাদক সেবনও করেননি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট তাকে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।