যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু, চাপে স্টারমারের লেবার পার্টি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ মে ২০২৬ ০৫:০০ অপরাহ্ণ   |   ৪০ বার পঠিত
যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু, চাপে স্টারমারের লেবার পার্টি

অনলাইন ডেস্ক

 

 

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও ওয়েলশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।
 

২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমার সরকারের অধীনে এটিই প্রথম স্থানীয় নির্বাচন। ফলে নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে সরকারের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনের বাস্তব চিত্র উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে, এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টির ফল আশানুরূপ নাও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। এমনকি তাঁর পদত্যাগ দাবি বা নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা জোরদার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
 

নির্বাচনে লেবার পার্টির পাশাপাশি অভিবাসনবিরোধী ‘রিফর্ম ইউকে’ এবং পরিবেশবাদী ‘গ্রিনস পার্টি’ও আলোচনায় রয়েছে। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে এ দুটি দল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেলানি গারসন বলেন, এই নির্বাচন বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মনোভাব যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে।
 

স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। কিছু ফলাফল রাতেই জানা যেতে পারে, তবে অধিকাংশ ফলাফল শুক্রবার বিকেলের আগে প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইংল্যান্ডে প্রায় ১৬ হাজার স্থানীয় কাউন্সিল আসনের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার আসনে ভোট হচ্ছে। একইসঙ্গে ওয়েলশ ও স্কটল্যান্ডে আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
 

উল্লেখ্য, লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার আগে প্রায় ১৪ বছর যুক্তরাজ্যে ক্ষমতায় ছিল কনজারভেটিভ পার্টি। তাদের শাসনামলে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি, ব্রেক্সিট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের অর্থনৈতিক নীতির কারণে জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর স্টারমার সরকারও নানা নীতিগত বিতর্কের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক বিতর্ক ও অভিযোগ তাঁর সরকারের ভাবমূর্তিকে চাপে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।