নিজস্ব প্রতিবেদক:
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মাঠপর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত কলেরার কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় পরিচালিত স্বাস্থ্য কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায়। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার এবং কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগারে (সিএমএসডি) আরও এক হাজার ভায়ালসহ মোট ২২ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনাম মজুত রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট খাবার স্যালাইন (ওআরএস), প্রায় চার লাখ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন এবং ৩৬ লাখের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি তথ্য অনুসরণ এবং অসুস্থ হলে নিকটস্থ মেডিকেল টিমের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি সংক্রামক রোগের অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা গেছেন ২৫ জন। গত বছরের একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৫।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৫০০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব কাজ শেষ হলে হাসপাতালটি পুনরায় পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।