মোছাঃ আছমা আক্তার আখি, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে এক ডিপ্লোমাধারী নার্সকে গালিগালাজ, মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রোগীদের স্বজনদের বিভিন্ন ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে চাপ দেওয়া এবং নার্সদের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহেরও অভিযোগ করেছেন ওই ক্লিনিকের কয়েকজন কর্মরত নার্স।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দেবীগঞ্জের স্কায়ার ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ক্লিনিকটির নার্স কলি রানী। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিকের কর্মী, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারী নার্স কলি রানীর ভাষ্য, রোববার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকের মালিক বাবুল হোসেন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তাকে ব্যক্তিগত অফিসকক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল হোসেন তার মাথায় কয়েকটি থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন কলি রানী। এ সময় ক্লিনিকে রোগী ও তাদের স্বজনসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
কলি রানীর অভিযোগ, রোগীদের বিভিন্ন ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রী বেশি দামে বিক্রির জন্য তাকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো। এর মধ্যে মাসিকের প্যাড, সিজারিয়ান বেল্ট, ওষুধপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী মিলিয়ে প্রায় ৯০০ টাকার একটি প্যাকেজ রোগীদের কিনতে বাধ্য করা হতো বলে দাবি তার।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো রোগীর স্বজন এসব সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনলে ক্লিনিক মালিক নার্সদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে গালিগালাজ করতেন।
কলি রানী বলেন, “আমি একজন ডিপ্লোমাধারী নার্স। আমার দায়িত্ব রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া। রোগীদের কাছে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বা কেনার জন্য চাপ দেওয়া আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।”
এদিকে বেতন নিয়েও অভিযোগ করেছেন কলি রানী। তার দাবি, ক্লিনিকে যোগদানের সময় মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তাকে ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি ক্লিনিক মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান।
একই ক্লিনিকের নার্স ঋতুরায়ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, নার্সদের দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের দালালদের ফোন করানো হয় এবং নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে স্কায়ার ক্লিনিকে রোগী নিয়ে আসতে বলা হয়। এ কাজে নার্সরা রাজি না হলে তাদের গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নার্সদের অভিযোগ, রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের ওপর রোগী সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রী বিক্রির চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি ক্লিনিক মালিকের....
তবে নার্সদের আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন স্কায়ার ক্লিনিকের মালিক বাবুল হোসেন। তার বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন অভিযোগকারী নার্সরা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।