মুস্তাফিজুর ইস্যুতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত, অর্থনৈতিক প্রভাব নেই: অর্থ উপদেষ্টা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫৭ অপরাহ্ণ   |   ৯৩ বার পঠিত
মুস্তাফিজুর ইস্যুতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত, অর্থনৈতিক প্রভাব নেই: অর্থ উপদেষ্টা

ঢাকা, মঙ্গলবার—ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সৃষ্ট সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এ ঘটনার সূচনা বাংলাদেশ থেকে হয়নি এবং এতে বাংলাদেশ ও ভারত—কোনো দেশেরই লাভ হয়নি।
 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
 

সাংবাদিকরা জানতে চান, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সরকারি উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে মুস্তাফিজুরকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কি না। জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ ঘটনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি জানান, ‘আজকের ক্রয় কমিটির বৈঠকে খেলাধুলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
 

পাল্টা প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই নেওয়া হয় এবং এই ঘটনার কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা সরকারি ক্রয়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
 

এটি কেবল অর্থ-বাণিজ্যের নয়, বরং পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়—সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
 

নির্বাচনের দুই মাস আগে এমন ঘটনা রাজনৈতিক কি না—এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি এবং শুরুটা বাংলাদেশ করেনি—এটি সবাইকে স্বীকার করতে হবে।
 

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা অনেক সময় দেশের কূটনৈতিক দূত হিসেবে কাজ করে। মুস্তাফিজুর রহমান একজন প্রতিষ্ঠিত ও দক্ষ ক্রিকেটার, তাকে যোগ্যতার ভিত্তিতেই দলে নেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ করে তাকে বাদ দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোও অনাকাঙ্ক্ষিত। সব মিলিয়ে বিষয়টি দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 

খেলাধুলার সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতিহাসে নানা বিরোধের মধ্যেও খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই পক্ষই বিবেচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানে পৌঁছাবে। সরকার রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কোনো ক্ষেত্রেই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক—এটি চায় না বলেও জানান তিনি।
 

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই এ উদ্যোগ সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।