মোঃ ওসমান গনি, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের ১০৬০ নম্বর পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় নারী ও শিশুসহ ছয়জন বাংলাদেশি প্রায় ৫০ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুই দেশের কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ না করায় খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত এসব ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিষয়টির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সুমি আক্তার জানান, জীবিকার সন্ধানে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে কাজ না পেয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে। পরে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তের ১০৬০ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাদের দাবি, সবার কাছেই বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তাদের স্থায়ী ঠিকানা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে। এদিকে মানবিক সংকটে পড়া এসব মানুষের দ্রুত পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।