আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের পটিয়ায় কলা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে মোহাম্মদ তোহা ওরফে তোহা মুন্সি (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, টর্চলাইট ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধরের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১২টার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তোহা মুন্সি ওই এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে। তিনি তিন কন্যা ও ছয় মাস বয়সী এক পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী শেলী আক্তার একজন গৃহিণী।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেন (২৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি একই এলাকার এজাহার মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ির সামনে আনোয়ারকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে তোহা মুন্সি তাঁর কাছে গাছের কলা চুরির বিষয়ে জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আনোয়ারের সঙ্গে বাবুল, এজাহার মিয়া, সাদ্দামসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা ও টর্চলাইট দিয়ে তোহা মুন্সির ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পটিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় বোনের ছেলে মো. শওকত মোরশেদ বলেন, “আমার মামার সঙ্গে কারও পূর্ব শত্রুতা ছিল না। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।”
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মাহবুব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, পটিয়া আইনজীবী সহকারী সমিতির সহ-সভাপতি সিরাজুল হক এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।