|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৩০ অপরাহ্ণ

বঙ্গোপসাগরের দুই হাজার মিটার গভীরে মিলল প্লাস্টিক, উদ্বেগ প্রধান উপদেষ্টার


বঙ্গোপসাগরের দুই হাজার মিটার গভীরে মিলল প্লাস্টিক, উদ্বেগ প্রধান উপদেষ্টার


বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে গবেষণা জোরদার ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’-এর মাধ্যমে পরিচালিত সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম বিষয়ক জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করে সংশ্লিষ্ট কমিটি। প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় এসব উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসব্যাপী এই জরিপ পরিচালিত হয়। এতে আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি।
 

বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী গবেষণার উপাত্ত তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। ওভারফিশিংয়ের ফলেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 

তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরের প্রায় দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
 

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি স্বল্প গভীরতার পানিতেও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।
 

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে গভীর সমুদ্রে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার মাছ আহরণে নিয়োজিত থাকলেও এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে টার্গেটেড ফিশিং করছে। এই আগ্রাসী পদ্ধতিতে বড় মাছ ধরা পড়লেও ক্ষুদ্র জেলেরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
 

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “টার্গেটেড ফিশিং অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিংয়ের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”
 

তবে প্রতিবেদনে টুনা মাছের আধিক্য ও এ খাতে উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান পাওয়ার তথ্য জানিয়ে তা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
 

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, “সামুদ্রিক সম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত গবেষণা ও শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ থাকলেও আমরা এখনো এই বিপুল সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি।”


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬