বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি, নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৩ জুলাই ২০২৬ ০৪:১৬ অপরাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি, নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 

সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
 

পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদী পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ৪৪টি স্টেশনে পানি কমেছে, দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং একটি স্টেশনের তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উজান ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় অব্যাহত অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আরও কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট, সিলেট সদর ও সুনামগঞ্জ স্টেশন, তিস্তা নদীর নীলফামারীর ডালিয়া ও রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্ট এবং মুহুরী নদীর ফেনীর হরিপুর স্টেশনে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এসব এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াত এলাকায় সর্বোচ্চ ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে জামালপুরে।
 

এদিকে টানা বর্ষণ ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দেশের অন্তত ছয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।