ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, দ্রুতই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পাশাপাশি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনার ভিত্তিতেই তিনি বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ আয়োজন নিয়ে আশাবাদী।
আমিনুল হক বলেন, “ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারাও আশাবাদী। গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যে দোটানা তৈরি হয়েছে, তা খুব দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব। তাই সিরিজটি দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ক্রিকবাজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে ভারতের তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী ২৮ আগস্ট ভারতীয় দলের বাংলাদেশে আসার কথা এবং ১ সেপ্টেম্বর সিরিজের প্রথম ম্যাচ হওয়ার কথা। শেষ ম্যাচ ১৩ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা থাকায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ঘোষিত সূচির সঙ্গে সময়ের সংঘাত তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সফর নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা দ্রুতই বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে সমাধানে পৌঁছাতে চাই।”
গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ দলের না খেলার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, একজন সাবেক ক্রীড়াবিদ হিসেবে ওই সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিতে পারেননি।
তার ভাষায়, “গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিগত সরকার যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হঠাৎ করে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া—এটা ঠিক হয়নি। এর ফলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে যে দোটানা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আমরা কাজ করছি।”
তিনি জানান, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা ভারতীয় হাইকমিশন ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে খেলাধুলার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।