পটিয়ায় বারী এগ্রো ফার্মের জৈব সারের মোড়ক উন্মোচন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৪ মে ২০২৬ ০১:৪৯ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
পটিয়ায় বারী এগ্রো ফার্মের জৈব সারের মোড়ক উন্মোচন

আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্রগ্রাম:

 

 

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকের ভাগ্য বদলের আশাবাদ

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় বারী এগ্রো ফার্মের উৎপাদিত জৈব সারের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। কৃষিবান্ধব ও পরিবেশসম্মত এ জৈব সার কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
 

বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সারের নতুন মোড়ক উন্মোচন করেন ফারহানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমান।
 

অনুষ্ঠানে বারী এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বজলুল বারী চৌধুরী জৈব সারের উপকারিতা তুলে ধরে জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এ সার মাটির উর্বরতা ও গঠন উন্নত করতে কার্যকর। পাশাপাশি বিষমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ জৈব সার তৈরিতে খামারের গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, কাঁচা শাকসবজির খোসা, সবুজ ঘাস, লতাপাতা, কচুরিপানা, শুকনো পাতা, ধানের খড়, তুষ, ডলোমাইট চুন, নিমের খৈল ও মেহগনি গাছের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত এ সার মাটির গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতেও সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

বারী এগ্রো ফার্মের কর্ণধার বজলুল বারী চৌধুরী জানান, ২০১০ সালে অনাবাদি জমিতে উন্নত জাতের ধানের চাষের মাধ্যমে খামারের যাত্রা শুরু হয়। পরে মাছ চাষ, মাছের পোনা উৎপাদন, ডিমপাড়া মুরগির খামার ও দুধেল গাভীর খামার পরিচালনা করেন তিনি। তবে বিভিন্ন সময়ে রোগব্যাধি ও পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাকে।
 

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে ভুট্টা, সয়াবিন, পপকর্ন ও সুইট কর্ন চাষের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য সাইলেজ উৎপাদন শুরু করেন। একই সঙ্গে উন্নত জাতের ধানের বীজ উৎপাদনও অব্যাহত রাখেন।
 

খামারের উন্নয়নে উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও ডেইরি অফিসের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৯ সালে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব সার উৎপাদনের মেশিন পান। পরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে উৎপাদিত গ্যাস পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও সরবরাহ করেন। বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের বর্জ্য ব্যবহার করেই বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে।
 

বর্তমানে নিজ খামারের পাশাপাশি আশপাশের ছোট খামার থেকেও গোবর সংগ্রহ করে বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টন জৈব সার উৎপাদন করছে বারী এগ্রো ফার্ম। এ খামারে নিয়মিত ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও এ খামারের উৎপাদিত সার ক্রয় করছে বলে জানা গেছে।
 

স্থানীয়দের মতে, বারী এগ্রো ফার্ম শুধু কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বারই উন্মোচন করেনি, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
 

পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, শুরুতে নিজ উদ্যোগে জৈব সার উৎপাদন শুরু করলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়। পরে বজলুল বারী চৌধুরী নিজ উদ্যোগে ভর্তুকি দিয়ে উৎপাদন আরও বাড়ান। জৈব সারের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং আমদানির চাপও হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।