বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। এর আগে সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুল লতিফ ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ সিআইডিতে অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানকালে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই এসব হিসাবে থাকা অর্থ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা জরুরি বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পির সংশ্লিষ্টতায় ফয়সাল করিম মাসুদ এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি গুলি চালান। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলায় পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, ভাড়ায় প্রাইভেটকার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং ফয়সাল করিম মাসুদ।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ফয়সাল করিম মাসুদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর রাতে তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।