জমিতে কোমরসমান পানি, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হালুয়াঘাটের কৃষক

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৬ মে ২০২৬ ০৫:৪১ অপরাহ্ণ   |   ৪৬ বার পঠিত
জমিতে কোমরসমান পানি, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হালুয়াঘাটের কৃষক

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

 

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বিলাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় পাকা ধান কাটতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকেরা। এর সঙ্গে তীব্র শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির চাপ যোগ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
 

সরেজমিনে দেখা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার বিলডোরা ইউনিয়নের টিলাপুড়ি ও খাওয়াপুড়ি এবং ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের মাটিখলার গেইর বিল এলাকার বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। পানির চাপে অনেক জমির পাকা ধান হেলে পড়েছে। ক্ষতি এড়াতে কৃষকেরা দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা চালালেও অধিকাংশ শ্রমিক পানিতে নেমে কাজ করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে ধান ঘরে তোলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
 

বিলডোরা এলাকার কৃষক শামসুল ইসলাম বলেন, খাওয়াপুড়ি বিলে ৩৫ শতাংশ জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে জমিতে কোমরসমান পানি জমে আছে। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। যারা পাওয়া যাচ্ছে, তারাও পানিতে নেমে ধান কাটতে চাইছেন না। তিনি বলেন, “এই জমির ধান দিয়েই সারা বছর সংসার চলে। এখন কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব বুঝতে পারছি না। সরকার যদি কোনো সহায়তা দেয়, তাহলে অনেক উপকার হবে।”
 

টিলাপুড়ি এলাকার কৃষক এরশাদ ঠাকুর জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে ধান কাটছেন তারা। পরে কাটা ধান উঁচু স্থানে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে।
 

আরেক কৃষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বর্তমানে একজন শ্রমিককে ধান কাটার জন্য দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। ধান মাড়াইয়ের পর ট্রলিতে করে খোলা উঠানে নিতে প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং সেখান থেকে ঘরে তুলতে আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু ধানের বাজারদর বাড়েনি। তারপরও সারা বছরের খাবারের আশায় ধান ঘরে তুলতেই হবে।”
 

কৃষকেরা জানান, কেউ কেউ হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করলেও জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় সেই উদ্যোগও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে টিলাপুড়ি, খাওয়াপুড়ি ও জামবিল এলাকার কৃষকেরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
 

হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির ধান বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।