
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত অনুভব করছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি মর্যাদাপূর্ণ Moscow International Film Festival-এ অংশ নিয়ে এমন অনুভূতির কথাই জানিয়েছেন তিনি। নিজের অভিনীত চলচ্চিত্র King in the Land of the Princess নিয়ে প্রথমবারের মতো এই উৎসবে যোগ দেওয়া ছিল তার কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
অভিনেত্রী বলেন, মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার ভাবনাই তাকে ভেতর থেকে আলোড়িত করেছিল। দীর্ঘদিন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অভিনীত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভাষায়, “আমি সবসময় কাজের মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করি। অভিনয় কিংবা ছবি আঁকা—যাই করি না কেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আমার কাছে গর্বের।”
তিনি জানান, মস্কো পৌঁছানোর পর থেকেই তার মনে হচ্ছিল, তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, বরং বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেই সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্মাতা, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল তার অভিনীত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। সিনেমাটি চলাকালে দেশের মানুষ ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের সহকর্মীদের খুব মনে পড়ছিল বলে জানান তিনি। “মনে হচ্ছিল, এই গল্পটা শুধু আমার নয়, আমাদের সবার,”—বলছিলেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছুটা নার্ভাসনেসও কাজ করছিল তার মধ্যে।
তবে প্রদর্শনী শেষে আন্তর্জাতিক দর্শক ও সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছে। কেউ গল্পের গভীরতা, আবার কেউ চরিত্রের আবেগ নিয়ে প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে তার অভিনীত ‘প্রিন্সেস রোজি’ চরিত্রটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে বলে জানান তিনি। এমনকি এক বিদেশি চলচ্চিত্র সমালোচক তাকে একটি স্টারখচিত স্কার্ফ উপহার দেন, যা তিনি স্মৃতি হিসেবে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন।
চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “প্রিন্সেস রোজি শুধু একটি চরিত্র নয়, এটি সংগ্রামের প্রতীক। চরিত্রটির আবেগ, যন্ত্রণা ও স্বপ্ন নিজের ভেতরে ধারণ করার চেষ্টা করেছি।” আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকে এই চরিত্রের প্রশংসা পাওয়া তার কাছে বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
লালগালিচার অভিজ্ঞতাও ছিল তার জন্য বিশেষ স্মরণীয়। তিনি জানান, বিদেশি কোনো ব্র্যান্ডের পোশাক না পরে সচেতনভাবেই দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। এ উপলক্ষে তিনি পরেছিলেন সিঁদুর লাল কাতান ওভারকোট, যার ডিজাইনার ছিলেন তানভীর কবির। এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
প্রায় আট দিনের এই সফরে ব্যস্ততার কারণে মস্কো শহর ঘুরে দেখার খুব বেশি সুযোগ হয়নি বলে জানান তিনি। তবে শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে আবারও মস্কো সফরের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সবশেষে তিনি বলেন, “মস্কো উৎসবের এই দিনগুলো আমার জীবনের অমূল্য এক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানে আমি শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবেও নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। আমাদের গল্প, সংস্কৃতি ও শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার শক্তি আমাদের রয়েছে।”
সূত্র: সমকাল।
লেখক: আশনা হাবিব ভাবনা, অভিনয়শিল্পী