পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী জনপদে পুশইনের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ বাড়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও রাত জেগে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। দিনভর পরিশ্রম শেষে ঘুমের পরিবর্তে এখন সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে চলছে টহল, সতর্কতা আর নজরদারি।
পঞ্চগড়-১৮ বিজিবির আওতাধীন সদর উপজেলার মীরগড় সীমান্ত এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর রাতেও অলিগলি, ফসলের মাঠ এবং সীমান্তঘেঁষা পথে মানুষের চলাচল। কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে টর্চলাইট, আবার কেউ বাঁশি ও হ্যান্ড মাইক নিয়ে সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন। কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লেই দ্রুত সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, ভারতের প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় কাঁটাতারের বেড়াবিহীন ও তুলনামূলক দুর্বল নজরদারির এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন করে পুশইনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে করে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী, বোদা ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভারতের সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত। বিস্তৃত ফসলি জমি, নদী ও খালের কারণে পুরো সীমান্তজুড়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ কারণে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে বিভিন্ন এলাকায় অনানুষ্ঠানিক পাহারা দল গঠন করা হয়েছে। পঞ্চগড়-১৮, ঠাকুরগাঁও-৫০ এবং নীলফামারি-৫৬ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
সীমান্তবাসীরা জানান, গত বছর বিভিন্ন সময় সীমান্ত দিয়ে একাধিক দফায় পুশইনের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের দাবি, সম্প্রতি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় মানুষ আবারও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় নারী ও শিশুসহ লোকজনকে সীমান্ত পেরিয়ে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল, যা পরে বিজিবি ও পুলিশের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সম্প্রতি নীলফামারী-৫৬ বিজিবির আওতাধীন সীমান্তে নারী-শিশুসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি তা প্রতিহত করে এবং পরবর্তীতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
সীমান্ত এলাকার মীরগড় গ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম বলেন, আগে দিন শেষে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যেত, এখন অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই দ্রুত বিজিবিকে জানানো হচ্ছে।
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম বলেন, সীমান্তে পুশইনের ঘটনা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শেখ সাজ্জাদ বলেন, পুশইন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সামাজিক ও কূটনৈতিক সংকটও তৈরি করতে পারে। এ ধরনের সমস্যার সমাধান দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মীরগড় কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।