দীর্ঘ ৪ মাস ২৪ দিন পর সচল রৌমারী–চিলমারী নৌরুটের ফেরি সার্ভিস

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৪ মে ২০২৬ ০১:৫৯ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
দীর্ঘ ৪ মাস ২৪ দিন পর সচল রৌমারী–চিলমারী নৌরুটের ফেরি সার্ভিস

মো. হারুন অর রশিদ, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:


 

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা ও চিলমারী উপজেলা নৌরুটে দীর্ঘ ৪ মাস ২৪ দিন বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি এবং নৌপথে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।
 

নৌ বন্দর সূত্রে জানা যায়, দুপুরে রৌমারী ঘাট থেকে ‘কদম’ ফেরির যাত্রার মাধ্যমে পুনরায় এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়। পরে ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিও যুক্ত হয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার কার্যক্রমে গতি আনে।
 

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল আকাশ এবং সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. নুরন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 

স্থানীয়দের মতে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ আন্দোলন ও জনদাবির পর এই নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু হয়। এরপর কুড়িগ্রাম, জামালপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতে থাকে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদ–এর নাব্য সংকট, চর জেগে ওঠা এবং পানি কমে যাওয়ায় বারবার ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে এ রুট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল।
 

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক ড্রেজিং কার্যক্রমের ফলে নৌপথের নাব্যতা উন্নত হওয়ায় ফেরি চলাচল আবারও সহজ হয়েছে। এতে পারাপারের দূরত্বও প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার কমে এসেছে। পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
 

ফেরি চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের মাঝে। ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়েছিল এবং সময়মতো পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। এখন আবার স্বাভাবিক পরিবহন ব্যবস্থা ফিরে আসবে।
 

ট্রাকচালক শাহিন মিয়া জানান, আগে বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হওয়ায় সময় ও জ্বালানি খরচ অনেক বেড়ে যেত। ফেরি চালু হওয়ায় এখন দ্রুত ও সহজে পারাপার করা সম্ভব হবে।
 

স্থানীয় শিক্ষক আবু সাঈদ বলেন, এই ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরেছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
 

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, নৌপথে পানি বৃদ্ধি ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’ ফেরি দিয়ে নিয়মিত পারাপার কার্যক্রম চলছে এবং ঈদকে সামনে রেখে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে।