গরমে ঘামাচি-চুলকানিতে স্বস্তি দিতে পারে নিমপাতা, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৭ জুন ২০২৬ ০১:২৯ অপরাহ্ণ   |   ৪৬ বার পঠিত
গরমে ঘামাচি-চুলকানিতে স্বস্তি দিতে পারে নিমপাতা, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

অনলাইন ডেস্ক

 

গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম ও ঘামের কারণে অনেকেই ঘামাচি, চুলকানি, ত্বকে র‍্যাশ এবং ব্রণের মতো সমস্যায় ভোগেন। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বিভিন্ন প্রসাধনী, বডিওয়াশ, ট্যালকম পাউডার কিংবা ত্বকের যত্নের পণ্য ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নিমপাতা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে।
 

গবেষণায় দেখা গেছে, নিমে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। ফলে ঘামাচি, চুলকানি, ব্রণ ও র‍্যাশের মতো সমস্যার ঝুঁকি কমে। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন সূত্রে নিমপাতা ব্যবহারের কয়েকটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
 

নিমপাতা মিশ্রিত পানিতে গোসল

ত্বকের নানা সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা গোসলের পানিতে নিমপাতা ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য এক মুঠো তাজা নিমপাতা দুই গ্লাস পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ছেঁকে গোসলের পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। নিয়মিত এভাবে গোসল করলে ঘামাচি কমে এবং ত্বক শীতল থাকে। পাশাপাশি পিঠ ও বুকে ব্রণের সমস্যাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
 

নিম ও হলুদের ফেস মাস্ক

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ বাড়ে। এ সময় নিমপাতা বেটে তার সঙ্গে সামান্য হলুদ ও গোলাপজল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশ্রণ ব্রণ কমাতে এবং অতিরিক্ত তেল দূর করতে সহায়ক। সপ্তাহে কয়েকবার ১৫ মিনিট করে ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
 

অ্যালোভেরা ও নিমের ব্যবহার

রোদে ত্বক পুড়ে গেলে বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হলে নিমপাতা ও অ্যালোভেরা জেলের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। তাজা নিমপাতা থেঁতো করে ঠান্ডা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগালে জ্বালাভাব কমতে পারে। একই সঙ্গে এটি ত্বকের ছোটখাটো ক্ষত সারাতেও সহায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
 

নিমপাতার চা

ত্বকের সুস্থতার সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে অনেকেই নিমপাতা ফুটিয়ে তৈরি চা পান করার পরামর্শ দেন। ধারণা করা হয়, এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে এবং লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে। যদিও এর স্বাদ তিতকুটে, তবু শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে এটি উপকারী হতে পারে।
 

ত্বকের যত্নে নিম তেল

খুশকি ও উকুন দূর করতে দীর্ঘদিন ধরেই নিম তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া মশার কামড়ের ঝুঁকি কমাতেও এটি ব্যবহার করা হয়। নারকেল তেল বা বাদাম তেলের সঙ্গে কোল্ড-প্রেসড নিম তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের প্রদাহ ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক উপাদান হলেও যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে নিম বা নিমজাতীয় পণ্য ব্যবহারের আগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।