সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণার পর প্রথমে তিনি নিজেই পর্ষদের সনদে স্বাক্ষর করেন। পরে অন্তত ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই শান্তি পর্ষদের লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখা। সনদে স্বাক্ষর শেষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শান্তি পর্ষদ এখন থেকে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, শান্তি পর্ষদের সঙ্গে কাজ করতে বহু দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সঙ্গেও সমন্বয়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য প্রায় ৫০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৫টি দেশের নেতা অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, কাতার ও মিশর।
ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক ও হাঙ্গেরি শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া মরক্কো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কসোভো, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, প্যারাগুয়ে ও ভিয়েতনামও পর্ষদের সদস্য হতে সম্মত হয়েছে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কসোভোর প্রেসিডেন্ট জোসা ওসমানি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী রোশেন জেলিয়াজোভ এবং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।