আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্রগ্রাম :
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৮ ইউনিয়নসহ পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ নানা ভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করেছে।এছাড়া ও উপজেলার শত শত একর জমির আমন বীজতলা গ্রীষ্মকালীন সবজি ও শত শত পুকুরের পোনা মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, পটিয়ার পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকলেও মানুষ এখনো নিরাপদে আছে। তবে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দিতে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ছনহরা, কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, ধলঘাট, শোভনদণ্ডী, কুসুমপুরা, আশিয়া ও কোলাগাঁও ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে গ্রামীণ সড়ক, সবজিক্ষেত, ফসলি জমি, বীজতলা এবং মৎস চাষের পুকুর তলিয়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মতে, বৃষ্টির পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর সদরের রামকৃষ্ণ মিশন সড়ক, খলিলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগের মধ্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পটিয়া উপজেলায় প্রায় ১৩ থেকে ১৪শটি মাছের পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাছচাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এ মুহূর্তে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
কুসুমপুরা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক পুকুর, জলাশয় ও মাছের প্রজেক্ট ডুবে যাওয়ায় মাছচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তিনি দূর্গত এলাকায় ত্রাণ সহ সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সরকার ও বিত্তবানদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।