১১ দলের লংমার্চ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: জিএমপির কর্মকর্তা প্রত্যাহার, শোকজ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৪২ অপরাহ্ণ   |   ৩৮ বার পঠিত
১১ দলের লংমার্চ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: জিএমপির কর্মকর্তা প্রত্যাহার, শোকজ

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে অনুষ্ঠিত পথসভা নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় অতিরিক্ত স্টাফ অফিসার খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

 

জিএমপি সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। পরে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

 

কর্মসূচিকে ঘিরে ভোগড়া বাইপাসসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। লংমার্চ ও পথসভাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

পথসভা শেষে জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লংমার্চ নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। এতে কর্মসূচির গন্তব্য ও দাবিগুলোর পাশাপাশি জিএমপি এলাকায় প্রবেশের সময়, ভোগড়া বাইপাসে পথসভা এবং আনুমানিক জনসমাগমের তথ্য তুলে ধরা হয়। পোস্টে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম এবং নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জিএমপির কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করা হয়।

 

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ পোস্টটির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। পরে জিএমপির অফিসিয়াল পেজ থেকে পোস্টটি প্রথমে সংশোধন এবং পরবর্তীতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে প্রত্যাহার ও শোকজ করা হয়।

 

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

তিনি জানান, জিএমপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অফিসিয়াল যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বক্তব্য ও তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় থাকা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পোস্ট দেওয়ার আগে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেননি। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিকভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং বাহিনীর অফিসিয়াল যোগাযোগে শৃঙ্খলা, সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে।

 

এদিকে, পোস্টের কোন নির্দিষ্ট অংশ দায়িত্ব পালনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ছিল, সে বিষয়ে জিএমপির পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি শোকজের জবাব ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।