মিয়ানমারে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু
অনলাইন ডেস্ক:
মিয়ানমারে সামরিক জান্তার তত্ত্বাবধানে রোববার দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন বেসামরিক কাঠামোর আড়ালে সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার পথ তৈরি করতে পারে।
সকাল ৬টার দিকে অং সান সু চির সাবেক নির্বাচনী এলাকা ইয়াঙ্গুন শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কাওহমু এলাকায় ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়। সেখানে ভোট দিতে আসা কৃষক থান থান সিন্ট জানান, নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন।
কাওহমুর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে ৫৪ বছর বয়সী থান থান সিন্ট বলেন, শান্তি একেবারে দ্রুত আসবে না—এটা আমরা জানি। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধাপে ধাপে এগোতে হবে। নির্বাচনের পর পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছি।
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর দেশটিতে নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ধাপে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এগিয়ে রয়েছে। দলটি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রায় ৯০ শতাংশ আসনে জয় পায়। নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী ২৫ জানুয়ারি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসডিপি কার্যত সামরিক বাহিনীর ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করছে। স্বাধীনতার পর থেকে মিয়ানমার দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। সর্বশেষ ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। ওই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী অং সান সু চিকে আটক করা হলে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।
সু চিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁর দল ভেঙে দেওয়া হয়। গণতন্ত্রপন্থীদের অভিযোগ, চলমান নির্বাচন পুরোপুরি সামরিক জান্তার মিত্রদের পক্ষে সাজানো। রোববার ইয়াঙ্গুনে ভোট দেওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা বলেন, ফলাফল কী হবে তা সবারই জানা। সামরিক বাহিনীর মিত্ররাই জিতবে। তাই অনেক মানুষের এই নির্বাচনে তেমন আগ্রহ নেই।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬