বর্তমান সময়ে গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা ও অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। খাওয়ার পর পেট ভার লাগা, ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা কিংবা অস্বস্তির কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া—এসব সমস্যা এখন বেশ পরিচিত। অনেকে নিয়মিত ওষুধ খেলেও সাময়িক স্বস্তি পান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
স্বাস্থ্যসচেতনদের মতে, দ্রুত খাবার খাওয়া গ্যাসের অন্যতম কারণ। খাবার ভালোভাবে না চিবিয়ে গিলে ফেললে পেটে অতিরিক্ত বাতাস ঢুকে যায়, যা পরে গ্যাস তৈরি করে।
এ ছাড়া ছোলা, মটর, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ডাল, দুধ ও কোমল পানীয়ের মতো কিছু খাবার পেটে ফার্মেন্ট হয়ে গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে।
পানি কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, ফলে পেটে গ্যাস জমে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগও হজমশক্তি কমিয়ে পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। খালি পেটে চা বা কফি পান করলে অ্যাসিডিটির ঝুঁকিও বাড়ে।
এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জিরা ও এক ইঞ্চি পরিমাণ থেঁতলানো আদা দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় পান করলে গ্যাস কমতে পারে। আদা হজমে সহায়তা করে এবং জিরা গ্যাস নিরসনে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
এক চিমটি হিং গরম পানিতে মিশিয়ে নাভির চারপাশে হালকা ম্যাসাজ করলে পেটের অস্বস্তি কমতে পারে। হিংয়ে থাকা উপাদান গ্যাস নিরসনে সহায়ক।
খাওয়ার পর এক চা চামচ মৌরি চিবিয়ে খেলে হজমে সুবিধা হয়। মৌরিতে থাকা অ্যানিথল পেটের পেশি শিথিল করে গ্যাস বের হতে সাহায্য করে।
পেটে কয়েক মিনিট গরম পানির সেঁক দিলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং হজম ভালো হয়। পাশাপাশি খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে আটকে থাকা গ্যাস বের হয়ে যেতে পারে।
পুদিনা পাতা, লেবুর রস ও সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে শরবত তৈরি করে পান করলে পেট ঠান্ডা থাকে এবং অ্যাসিডিটির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়া
কোমল পানীয় ও চুইংগাম এড়িয়ে চলা
খালি পেটে দুধ-চা না খাওয়া
খাবারের মাঝখানে অতিরিক্ত পানি পান না করা
রাতে শসা, পেঁয়াজ ও মূলা কাঁচা না খাওয়া
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়া ভালো। প্রতিদিন টক দই খেলে উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজমে সাহায্য করে। এছাড়া খাওয়ার পর কয়েক মিনিট বজ্রাসনে বসলে হজমে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: Asianet News Bangla