নওগাঁয় পেট্রোল পাম্পে বাড়তি চাপ, সংকটের আশঙ্কায় আগেভাগেই ট্যাংক পূর্ণ করছেন চালকরা
নওগাঁ প্রতিনিধি:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নওগাঁ জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ করেই বেড়েছে ক্রেতার চাপ। ভবিষ্যতে তেলের সংকট হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক যানবাহন চালক আগেভাগেই ট্যাংক পূর্ণ করে নিচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
শনিবার নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাস সড়ক, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড ও বরুণকান্দি এলাকার একাধিক পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পাম্পের ভেতরের লাইন সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কিছু পাম্পে অকটেন দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
শহরের মুক্তির মোড় এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে অকটেন নিতে আসা ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির কর্মী ইমরান হোসেন জানান, তিনি সাধারণত প্রতিদিন একবার মোটরসাইকেলে অকটেন নেন। তবে তেল সংকটের গুজব শুনে আগেভাগেই ট্যাংক পূর্ণ করতে পাম্পে এলেও সেখানে এসে জানতে পারেন অকটেন শেষ হয়ে গেছে। পরে তিনি অন্য পাম্পের দিকে রওনা দেন।
বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকেই বলছে সামনে তেলের সংকট হতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই ট্যাংক ভরে রাখছি।
শহরের বাইপাস এলাকার মজুমদার ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, বুধবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত গাড়ির চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দেড় থেকে দুই গুণ বেড়েছে। অতিরিক্ত বিক্রির কারণে মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় শনিবার সকাল থেকে সেখানে অকটেন বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
শাকিব ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে তাদের স্টেশনে ২০ থেকে ২৫ হাজার লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল মজুত থাকে। কিন্তু হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মজুত দ্রুত কমে গেছে। তাই আপাতত শুধু গাড়ির ট্যাংকে তেল দেওয়া হচ্ছে, আলাদা পাত্রে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাধারণত ডিপো থেকে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হয়। বৃহস্পতিবার পাওয়া তেল দিয়েই শুক্রবার ও শনিবার চালাতে হয়। কিন্তু হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে রোববার ডিপো থেকে নতুন তেলবাহী লরি এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলার পাম্প মালিকদের মতে, প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকে। ফলে বৃহস্পতিবার পাওয়া তেল দিয়েই দুই দিন চলতে হয়। কিন্তু গুজবের কারণে গ্রাহকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শনিবার দুপুরের মধ্যেই কিছু পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা বাড়ায় মজুত কিছুটা কমলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মজুত থাকা ডিজেল দিয়ে প্রায় সাত দিন, পেট্রোল দিয়ে প্রায় আট দিন এবং অকটেন দিয়ে প্রায় ১৪ দিন পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ আসার পথে রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে জেলা পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, গুজব ও সংকটের আশঙ্কায় অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়ে কিছু পাম্পে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬