সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা। সভায় জানানো হয়, ৩৬ দিনের এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পদযাত্রা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি এবং ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার দিকে অগ্রসর হবে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’। আগামী ২১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি চত্বরে সমাবেশের পর মার্চটি পূর্বাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
২. গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
৩. জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
সভায় বক্তারা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিস সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির মুখপাত্র ইউসুফ আম্মার, কবি বোরহান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান, সাধারণ আলেম সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, জুলাইয়ে চোখ হারানো যোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল শাফিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমদসহ অনেকে।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।