রয়টার্স
সৌদি আরবের চারটি শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবারের এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটি হুতিদের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী আবহা শহরে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির একটি স্থাপনা, সীমান্তবর্তী নাজরান এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী জাজানের বিভিন্ন স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। জাজানে একটি বড় তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতিরা।
সৌদি কর্তৃপক্ষও হামলার পর কয়েকটি স্থাপনায় আগুন লাগার কথা জানিয়েছে। এতে ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সৌদি আরবে হামলার পরপরই ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখায় স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়ে।
এর আগে সোমবার সৌদির পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় হামলার পর হুতিরা কিছু ছবি প্রকাশ করে। সেখানে বিস্ফোরণ ও ঘন ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা যায়। অন্যদিকে, হুতিদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের দাবি, মঙ্গলবার ইয়েমেনের জুবাহ জেলায় সৌদি আরব চার দফা বিমান হামলা চালিয়েছে।
গত আগস্টে কিছুটা শান্ত থাকার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৯ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বাইরে সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
ইয়েমেনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব। এ কারণে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই সংঘাত কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে।