চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সড়কে মাছ, বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার রেখে জেলেদের বিক্ষোভ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ জুন ২০২৬ ০২:৫৮ অপরাহ্ণ   |   ৩৭ বার পঠিত
চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সড়কে মাছ, বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার রেখে জেলেদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি


 

চট্টগ্রাম নগরের রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাটে ‘অবৈধ খাস কালেকশন’ ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা। বুধবার দুপুরে ঘাটসংলগ্ন সড়কে মাছ, বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তারা।
 

মানববন্ধনে শতাধিক জেলে অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে মাছ নামানো, নৌকা ভেড়ানো, জাল, রশি, বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন ব্যবসার ওপর অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ‘খাস কালেকশন’-এর নামে এ অর্থ আদায়ের কারণে জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
 

জেলেদের দাবি, দেশের মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাটে কর্মরতরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন মাছ নিয়ে ঘাটে আসার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়, ফলে অনেক জেলেকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
 

মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, শুধু জেলেরাই নন, ঘাটে কর্মরত শ্রমিক, নৌকার মাঝি, মাছ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ক্ষুদ্র বিক্রেতারাও একই ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন। তারা অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
 

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলেরা বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে চান। তবে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অবৈধ খাস কালেকশন ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। একই সঙ্গে ঘাটে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
 

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে ঘাট এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। পরে প্রতিবাদকারীরা তাদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
 

কর্মসূচিতে রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাটের সভাপতি মো. হাসান আলী চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ উদ্দিনসহ ঘাটের সদস্য, জেলে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।