বিস্তর দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ, তাও বহাল তবিয়তে মাধবপুরের শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৮ আগu ২০২৬ ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ   |   ৩৮ বার পঠিত
বিস্তর দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ, তাও বহাল তবিয়তে মাধবপুরের শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

 

 

 

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, ঘুষ বাণিজ্য এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এত সব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে টিকি থাকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—এই কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায়?

 

 

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মো. জাকিরুল ইসলাম মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই তিনি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে মাধবপুর শিক্ষা অফিসকে ‘অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায়’ পরিণত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নিজ জেলা নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।

 

 

ক্ষুব্ধ শিক্ষকেরা জানান, কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলামের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী মুখ খুলতে সাহস পান না। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই বানোয়াট কারণ দেখিয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়ে হয়রানি করা হয়।

 

 

বিভিন্ন খাতে কোটি টাকা আত্মসাৎ

শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলামের নানা দুর্নীতি ও কোটি টাকা আত্মসাতের বিরুদ্ধে গত ২১ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন উপজেলার আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল মিয়া।

 

 

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়:

 

  • ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্প: উপজেলার ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটির বরাদ্দ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

  • নৈশপ্রহরী নবায়ন: ‘নৈশপ্রহরী নবায়ন’ কর্মসূচির আওতায় ১৪৯টি বিদ্যালয়ের প্রতিটির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

  • অন্যান্য খাত: শিক্ষক মোটিভেশন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ, বই বিক্রি, ইন্টারনেট বিল, যাতায়াত ভাতা, স্কুলভিত্তিক নানা উন্নয়ন প্রকল্প, এমনকি ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মতো খাত থেকেও বিপুল অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে।

 

অভিযোগে বলা হয়, এসব অনিয়মের ফলে মাধবপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, এই আবেদনটির অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্যের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

 

 

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য: > অভিযুক্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসানের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো অনিয়মের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।”