সাতকানিয়ায় স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৪ মে ২০২৬ ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ   |   ৫২ বার পঠিত
সাতকানিয়ায় স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতকানিয়া


 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও মুখে প্লাস্টিকের বস্তা ঢুকিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা তার ছোট বোনকেও (অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী) যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) উপজেলার সিন্ধুপ্যাপাড়া এলাকার পাহাড়ে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
 

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে দুই বোন স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। বেলা ১১টার দিকে তারা পার্শ্ববর্তী বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া গ্রামের সহুদের নালা ও ছদাহার পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় বেড়াতে যায়। সেখানে ঘোরাঘুরির সময় কয়েকজন যুবক তাদের পিছু নেয়। বিপদ টের পেয়ে তারা পাহাড়ের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তাদের ধরে ফেলে এবং পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যায়।
 

সেখানে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে সাতজন মিলে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তার মুখে প্লাস্টিকের বস্তা ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। একই সময় তার ছোট বোনকে যৌন নিপীড়ন করা হয়।
 

মামলা ও গ্রেপ্তার

ঘটনাটি শুরুতে গোপন রাখতে চাইলেও ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে বিস্তারিত জানায়। বুধবার বিকেলে জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ অভিযানে নামে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
 

পুলিশ অভিযান চালিয়ে মধ্যরাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

  • রাকিব (২০)

  • মানিক ইসলাম (২০)

  • আবদুর রহিম (১৮)

  • উত্তর পাহাড় এলাকার এক কিশোর (১৫)
     

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চারজনই স্থানীয় একটি মুরগি খামারের শ্রমিক। মামলার বাকি ৩ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে।পুলিশের বক্তব্য
 

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, "ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরপর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হবে। গ্রেপ্তারকৃতদেরও আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
 

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পলাতক বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"