খাগড়াছড়িতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়াতে জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ সভা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৪৪ অপরাহ্ণ   |   ২৭ বার পঠিত
খাগড়াছড়িতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়াতে জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ সভা

ছোটন বিশ্বাস, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

 


 

খাগড়াছড়িতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) ব্যবহারে জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে পাইখাইয়া পাড়া আলো এনজিওর মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

 


 

প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খাগড়াছড়ির সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নিটোল মনি চাকমা ও জয়া ত্রিপুরা।
 

সভায় স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে রুফটপ সোলারের প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাবনা ও সুফল তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা রুফটপ সোলার বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, সুযোগ ও জনগণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং কমিউনিটিকে রুফটপ সোলার ব্যবহারে উৎসাহিত করার অঙ্গীকার করেন।
 

সভায় জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, বসতবাড়িতে রুফটপ সোলার জনপ্রিয় করা গেলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের একটি বড় বাজার গড়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমাবে। তিনি আরও জানান, সারাদেশে এক লাখ সৌর প্যানেল স্থাপন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
 

প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খাগড়াছড়ির সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমা বলেন, “ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ শুধু বিদ্যুতের চাহিদা পূরণই করবে না, নেট মিটারিং সুবিধার মাধ্যমে আয় করার সুযোগও সৃষ্টি করবে।”
 

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য জয়া ত্রিপুরা বলেন, বিদ্যুৎ খাত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। সমাজের সব স্তরের মানুষকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে অবহিত করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার আহ্বান জানান তিনি।
 

অপরদিকে জেলা পরিষদের সদস্য নিটোল মনি চাকমা বলেন, ভবন নির্মাণের অনুমোদনের সময় সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি দপ্তর, স্কুল ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
 

সভায় প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খাগড়াছড়ির সাধারণ সম্পাদক ইখিন চৌধুরী, সদস্য ও নারীনেত্রী নমিতা চাকমা, ইঞ্জিনিয়ার নিতু প্রসাদ চাকমা, কাবিদাং-এর নির্বাহী পরিচালক লালসা চাকমা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির কর্মসূচি পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আর্যমিত্র চাকমা, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কানন আচার্য্য, চ্যানেল ২৪-এর সাংবাদিক নুরুচ্ছাফা মানিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
 

সভায় জনপ্রতিনিধিদের মতামত ও পরামর্শ ভবিষ্যৎ অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার লক্ষ্যে এ ধরনের কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।