চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
একটি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত হয়েছিল লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড, আর আরেকটি বিশ্বকাপের সময় সেই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হলো। চার বছর ১১ মাস বয়সী শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আয়াত। পরদিন তার বাবা সোহেল রানা ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উঠে আসে, ভাড়া বাসায় থাকা আবির আলী শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। এরপর লাশ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আবির আলী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে সাগর ও স্লুইচগেট এলাকা থেকে মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।
মামলায় মোট ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
পিবিআই জানায়, এ মামলায় আরও এক কিশোর জড়িত থাকায় তার বিচার শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।