বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার আশঙ্কা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ জুন ২০২৬ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ   |   ৫০ বার পঠিত
বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার আশঙ্কা

কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এখনও ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবুও উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার নদীবেষ্টিত নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানির প্রবাহের ফলে গত তিন দিন ধরে নদীগুলোর পানি বাড়ছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে দুধকুমার নদের পানি সামান্য কমলেও একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার পানি কয়েক সেন্টিমিটার থেকে এক দশমিকেরও বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর পাশাপাশি নদীতীর ভাঙনও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙনের খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।

 

নদীপাড়ের অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষার চিন্তায় দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। কোথাও কোথাও নদীর পানি পাটক্ষেতে ঢুকে পড়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘসময় পানি জমে থাকলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

 

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা মাহাবুবার রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও শুরু হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভাঙন চললেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার আমিনা বেগম। তিনি বলেন, নদী ক্রমেই বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। তাই বাধ্য হয়ে ঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে নতুন করে কোথায় আশ্রয় নেবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন।

 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন জেলার নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন রোধে জেলার প্রায় ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনই কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।