|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৩১ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

এলপিজি গ্যাসের হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ


এলপিজি গ্যাসের হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ


মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে প্রায় সব কোম্পানির এলপিজি গ্যাসের হঠাৎ দাম বৃদ্ধি আর সংকটের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে খুচরা ব্যবসায়ী ও ডিলাররা, এমন অভিযোগ গত কয়েকদিন ধরেই সাধারণ মানুষের।

স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক সংকট নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা একটি কৃত্রিম সংকট।

এমন হঠাৎ দামবৃদ্ধি আর লুটপাটে খুচরা বিক্রেতারা ডিলারদের দুষছেন। আবার ডিলাররা সংকট আর পরিবহণে অতিরিক্ত খরচের দোহাই দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। পুরো মানিকগঞ্জ জেলা জুড়েই এমন বিস্তর অভিযোগ সাধারণ মানুষদের। বর্তমানে এলপিজি গ্যাসের হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে কার্যত সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকার ও কোম্পানি নির্ধারিত মূল্যকে তোয়াক্কা না করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে একপ্রকার নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১২৫০ টাকা থেকে লাফিয়ে বেড়ে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা, আবার কোথাও কোথাও ২১০০ টাকায় ঠেকেছে। বর্তমানে সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট চলছে দোকানগুলোতে। কয়েকটি বড় কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। ফ্রেশ, ডেলটা, পেট্রোম্যাক্স ও আইগ্যাসের সিলিন্ডার কিছু এলাকায় মিললেও সেগুলো ১৭৫০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রান্নার মতো অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। সব এলাকায় প্রায় একই সময়ে দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ‘গ্যাস নেই’ বলে কৌশলে ভোক্তাদের মন জয় করে- সব মিলিয়ে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের কারসাজির দিকেই ইঙ্গিত করছে সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের বাইরে গ্যাস বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও হরিরামপুর উপজেলা এবং জেলা শহরে কোনো কার্যকর প্রয়োগ চোখে পড়ছে না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান না থাকায় ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের মহিদুর রহমান জানান, তাঁর বাসায় ব্যবহার করেন বসুন্ধরা কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার। এই কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েকদিন আগে ১৩৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এখন দাম চায় ১৮৫০ টাকা, এমন হঠাৎ দামবৃদ্ধিতে আমরা স্তম্ভিত।

ভাওয়ারডাঙি গ্রামের দিনমজুর দেলোয়ার জানান, টোটাল গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতেন, সেটি বাজারে নেই, তাই বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডারসহ গ্যাস নিতে হচ্ছে তাঁকে। দাম ১৯০০ টাকা, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। ক্যাশ মেমো দেয় না ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের মাদারতলা এলাকার খুচরা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা আলীম বলেন, ‘অধিকাংশ কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু বেশি দাম নিলেও ডিলাররা ক্যাশ মেমো দিচ্ছে না। আমরা সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাভে গ্যাস বিক্রি করছি।’

অন্যদিকে কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁরাও গ্যাসের সংকটের কথা স্বীকার করেন। পাইকারি ১৬৫০ থেকে ১৭০০ টাকা ডিলাররা রাখেন, এখন আমরা বাধ্য হয়ে বিক্রি করি। কয়েকদিন আগে প্রতিদিন ১২–১৩টি করে বিক্রি করতাম। এখন দুই-তিনটি বিক্রি করি। বিক্রিও কমে গেছে।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তারের মুঠোফোনে বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি।

ক্যাশ মেমো ছাড়া পণ্য বিক্রির কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি ঘোষণায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২৫৩ টাকা। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত নতুন করে দাম পুনর্নির্ধারণ হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যে নতুন দাম নির্ধারণ করবে বলেও জানা গেছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬